ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নেতানিয়াহুকে ধরতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ তুরস্ক, রেড নোটিশ জারির অনুরোধ Logo ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শেখ হাসিনার পতন: তথ্যমন্ত্রী Logo রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের নতুন সচিব সালাহউদ্দিন নাগরী Logo তিন সচিব পদে পরিবর্তন Logo নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে ভারতের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন Logo প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে হবে সমমর্যাদার: বিরোধীদলীয় নেতা Logo ধর্ষণের পর মাসহ শিশুকে হত্যা, কথিত সাংবাদিক গ্রেপ্তার Logo প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব Logo দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুলের জীবনবৃত্তান্ত Logo নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন

কাঁধে স্কুল ব্যাগের বদলে সংসারের বোঝা

নিজস্ব সংবাদ :

কেউ গরু চরাচ্ছে, কেউ জাল দিয়ে ধরছে মাছ । অথচ এই শিশুদের থাকার কথা শ্রেণিকক্ষে, হাতে থাকার কথা বই-খাতা। কিন্তু মেঘনার দুর্গম চরে বেড়ে ওঠা এসব শিশুর বসতিতে নেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নেই দূরের স্কুলে যাওয়ার সহজ সুযোগও। ফলে শিক্ষার বয়সেই জীবিকার চাপে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব, বাড়ছে নিরক্ষরতা আর বাল্যবিয়ের ঝুঁকি।

নোয়াখালীর হাতিয়ার ঢালচর। মেঘনার বুকের মাঝে জেগে ওঠা এই চরে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের বসবাস। অথচ ওই চরের হাজারো শিশুর জন্য নেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রায় ২০ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে মূল ভূখণ্ডে যাওয়াই যেখানে কঠিন, সেখানে দুর্গম চরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া অনেক শিশুর পক্ষেই অসম্ভব। তাই সাত-আট বছর বয়স হলেই ছেলেরা যুক্ত হচ্ছে কৃষিকাজ কিংবা মাছ ধরায়। মেয়েদের বড় একটি অংশ ব্যস্ত থাকছে ঘরকন্যার কাজে। কিশোরী বয়সে পা রাখতেই শুরু হচ্ছে বিয়ের তোড়জোড়।

কাছে স্কুল থাকলে সন্তানদের পড়াতে চান অভিভাবকরা। কিন্তু নদীপথের দূরত্ব আর যোগাযোগ সংকটে সেই সুযোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এই চরে আশ্রয়ণকেন্দ্রের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনও। কিন্তু শিক্ষক না থাকায় বহু বছরেও চালু হয়নি সেটি। এই পরিত্যক্ত ভবন এখন গরু-ছাগলের দখলে।

চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এখনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা যায়নি বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানানোর আশ্বাস দেন তিনি।

মেঘনার চরে শৈশব হারাচ্ছে হাজারো শিশু। স্কুলের ঘণ্টার বদলে তাদের দিন শুরু হচ্ছে জীবিকার তাগিদে। তাই তাদের হাতে জাল নয় বরং বই-খাতা তুলে দিতে এই দুর্গম চরে শিক্ষার আলো নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:৩৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

কাঁধে স্কুল ব্যাগের বদলে সংসারের বোঝা

আপডেট সময় ০২:৩৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

কেউ গরু চরাচ্ছে, কেউ জাল দিয়ে ধরছে মাছ । অথচ এই শিশুদের থাকার কথা শ্রেণিকক্ষে, হাতে থাকার কথা বই-খাতা। কিন্তু মেঘনার দুর্গম চরে বেড়ে ওঠা এসব শিশুর বসতিতে নেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নেই দূরের স্কুলে যাওয়ার সহজ সুযোগও। ফলে শিক্ষার বয়সেই জীবিকার চাপে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব, বাড়ছে নিরক্ষরতা আর বাল্যবিয়ের ঝুঁকি।

নোয়াখালীর হাতিয়ার ঢালচর। মেঘনার বুকের মাঝে জেগে ওঠা এই চরে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের বসবাস। অথচ ওই চরের হাজারো শিশুর জন্য নেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রায় ২০ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে মূল ভূখণ্ডে যাওয়াই যেখানে কঠিন, সেখানে দুর্গম চরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া অনেক শিশুর পক্ষেই অসম্ভব। তাই সাত-আট বছর বয়স হলেই ছেলেরা যুক্ত হচ্ছে কৃষিকাজ কিংবা মাছ ধরায়। মেয়েদের বড় একটি অংশ ব্যস্ত থাকছে ঘরকন্যার কাজে। কিশোরী বয়সে পা রাখতেই শুরু হচ্ছে বিয়ের তোড়জোড়।

কাছে স্কুল থাকলে সন্তানদের পড়াতে চান অভিভাবকরা। কিন্তু নদীপথের দূরত্ব আর যোগাযোগ সংকটে সেই সুযোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এই চরে আশ্রয়ণকেন্দ্রের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনও। কিন্তু শিক্ষক না থাকায় বহু বছরেও চালু হয়নি সেটি। এই পরিত্যক্ত ভবন এখন গরু-ছাগলের দখলে।

চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এখনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা যায়নি বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানানোর আশ্বাস দেন তিনি।

মেঘনার চরে শৈশব হারাচ্ছে হাজারো শিশু। স্কুলের ঘণ্টার বদলে তাদের দিন শুরু হচ্ছে জীবিকার তাগিদে। তাই তাদের হাতে জাল নয় বরং বই-খাতা তুলে দিতে এই দুর্গম চরে শিক্ষার আলো নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের।