ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি-শর্টকাটে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা নয়, আদর্শ আইনজীবী হতে হবে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :

দুর্নীতি কিংবা কোনো ধরনের শর্টকাটের পথ অবলম্বন করে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা না করে মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় সফল হতে হলে শুরুতেই অর্থের পেছনে ছোটা উচিত নয়। কর্মজীবনের শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক কম থাকলেও ধৈর্য ধরে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগ দিতে হবে। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিকও বাড়বে। দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের জন্য দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ বেছে নিলে একজন আইনজীবীর পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, মেধা, সততা, নীতি-নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা স্বচ্ছ ও কঠোর করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ পেয়েছেন, তারা কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়, নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই এ অবস্থানে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় নেপোটিজমের সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবীর দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও তাদের সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরিচালিত মামলার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের কিছু মামলা বিনামূল্যেও পরিচালনা করা উচিত।

ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাদার আচরণ করতে হবে এবং একই সঙ্গে আইন পেশার মর্যাদাও অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এই পেশায় প্রতিদিনই শেখার সুযোগ রয়েছে। যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, তত বেশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। বিশেষ করে ভালো ড্রাফটিংসহ বিভিন্ন পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য নবীন আইনজীবীদের নিয়মিত আইনচর্চা করতে হবে।

তিনি জানান, দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির দিকে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। আইন পেশাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষতাভিত্তিক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
১৭ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতি-শর্টকাটে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা নয়, আদর্শ আইনজীবী হতে হবে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

দুর্নীতি কিংবা কোনো ধরনের শর্টকাটের পথ অবলম্বন করে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা না করে মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় সফল হতে হলে শুরুতেই অর্থের পেছনে ছোটা উচিত নয়। কর্মজীবনের শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক কম থাকলেও ধৈর্য ধরে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগ দিতে হবে। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিকও বাড়বে। দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের জন্য দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ বেছে নিলে একজন আইনজীবীর পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, মেধা, সততা, নীতি-নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা স্বচ্ছ ও কঠোর করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ পেয়েছেন, তারা কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়, নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই এ অবস্থানে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় নেপোটিজমের সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবীর দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও তাদের সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরিচালিত মামলার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের কিছু মামলা বিনামূল্যেও পরিচালনা করা উচিত।

ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাদার আচরণ করতে হবে এবং একই সঙ্গে আইন পেশার মর্যাদাও অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এই পেশায় প্রতিদিনই শেখার সুযোগ রয়েছে। যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, তত বেশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। বিশেষ করে ভালো ড্রাফটিংসহ বিভিন্ন পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য নবীন আইনজীবীদের নিয়মিত আইনচর্চা করতে হবে।

তিনি জানান, দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির দিকে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। আইন পেশাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষতাভিত্তিক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।